logo

করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কটিয়াদীতে নন এমপিও ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা হতাশায় ভুগছেন

মাসুম পাঠান

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুতেই সারাদেশের ন্যায় বন্ধ রয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সব কয়টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে বন্ধ রয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও। প্রায় ১৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় শিক্ষক, কর্মচারী অনেকই হতাশায় ভুগছেন
এবং শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পথ খুঁজছেন তাঁরা।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলায় নন এমিপও ৪টি স্কুল, ৩টি কলেজ, ১টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৮টি ইবতেদায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪০ জন শিক্ষক এবং উপজেলায় প্রায় ১৪০টি কিন্ডারগার্টেন দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী
কর্মরত আছেন। তাদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টিউশন ফি থেকে। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি তুলতে পারেনি। ফলেই বেতন পাননি প্রায় ১৬ মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা। বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার বেশ কয়টি প্রতিষ্ঠান


নন এমপিও দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. সুলাইমান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ১৬ মাস হয়েছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্য সরকার প্রণোদনা বাবদ শিক্ষক ৫ হাজার কর্মচারী আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছে। তা দিয়ে সপ্তাহ খানেক কোনরকম চলাও সম্ভব নয়। তাই এখন অনেক শিক্ষক জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্যের কাজ, গাড়িচালক ও মুরগির ফার্মে কাজ করছে। আমার প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিকট আকুল আবেদন করছি।

অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেন কর্মরত কয়েক জন শিক্ষক জানান, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের মাসিক বেতন বড়জোর ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। বেতনের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে কোনমতে তাদের সংসার চালাতে হয়। করোনার কারণে স্কুলের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগও বন্ধ আছে। সামাজিক মর্যাদার ও মান-সম্মানের ভয়ে ত্রাণের জন্য লাইনে দাড়াঁতে পারছি না। অর্থের অভাবে সন্তানের আবদার রাখতে পারেননি।

কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকগণ জানান করোনার কারণে সরকারি নির্দেশনায় স্কুল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায় বন্ধ রয়েছে। আমরা নিজেরাও চলতে পারছি না শিক্ষকদের বেতনও দিতে পারছি না। প্রতিষ্ঠান, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। সরকার করোনাকালের বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত কিন্ডারগার্টেন খাতে একটি সম্মানজনক বরাদ্দ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।


উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল শিক্ষকদের জন্য সরকারি ভাবে কোন অনুদান বা বরাদ্দ আসেনি। তবে পরবর্তীতে যদি কোন নির্দেশ আসে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী খান বলেন করোনার কারনে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকার নন এমপিও শিক্ষকদের প্রণোদনা দিয়েছে। ২য় দাপে আবার প্রণোদনা দেওয়া হবে।

Comments are closed.







প্রধান সম্পাদক : ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সহ-সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন শরীফ।
বার্তা সম্পাদক - মাসুম পাঠান, প্রধান কার্যালয়: ১৩/এ মনেশ্বর রোড, হাজারিবাগ, ঢাকা- বাংলাদেশ।
জোনাল অফিস: বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, কটিয়াদী বাজার (অগ্রনী ব্যাংক নিচতলা), কিশোরগঞ্জ।
ফোন : ০১৭১১-১৮৯৭৬১, ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭৩২-১৬৩১৫৭।
ই-মেইল: news@ghatanaprobaha.com, ওয়েবঃ- www.ghatanaprobaha.com
ডিজাইন: একুশে