logo

মানবেতর জীবনযাপন করছে কটিয়াদী পৌরসভার কর্মচারীরা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৮১জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রায় ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নাগরিক সেবায় নিয়োজিত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কটিয়াদী পৌরসভায় কর্মরত স্থায়ী ৩৬জন এবং চুক্তিভিত্তি ও পরিচ্ছন্ন কর্মী ৪৫জনসহ মোট ৮১জন ক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নভেম্বর ২০১৮ হতে এপ্রিল ২০১৯ পযর্ন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের টাকা পাওনা রয়েছে পৌরসভার কাছে। বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা হলেও তুলনামূলকভাবে পৌরসভায় আয়ের পরিধি না বাড়ায় এবং রাজস্ব আয় সংকটের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেয়রসহ কাউন্সিলরদের সম্মানী ভাতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করায় নাগরিক সেবা দেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ।

কটিয়াদী পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও কর আদায়কারী সালাহ উদ্দিন পরিবার পরিজনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, র্দীঘ ছয় মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় পাঁচ সদদ্যের পরিবার নিয়ে টানাপোড়া হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলের বেতনসহ নানান অর্থসংকটে পার হচ্ছে নিত্যদিন। তাই আমাদের দাবি সরকারের কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন প্রদান করতো তাহলে আমাদের কষ্ট লাঘব হওয়ার কথা জানান তিনি।

কটিয়াদী পৌর চতুর্থ শ্রেনী সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাই না। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি। পৌরসভার সৃষ্টিলগ্ন থেকে চাকরি জীবনে বহু প্রত্যাশা নিয়ে চাকরি করে আসছি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে সুখে থাকার আকুতি ছয় মাস ধরে বেতন না পেয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সন্তানদের স্কুল ও সাংসারিক এবং চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাকরির প্রতি মাস শেষে হাত ভর্তি টাকা নয়,বরং ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। আর দোকানদারদের অস্থিরতা তো পরের কথা। এই আর্তনাদ যদি বঙ্গকন্যা দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের র্দীঘদিন ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন চালুর দাবিটি বাস্তবায়ন করে তাহলে পৌরকর্মীদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রুপনিবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

ঠিকাদানকারী সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কটিয়াদী পৌরসভার হিসাবরক্ষক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা । কিন্তু রাজস্ব বৃদ্ধির না হওয়ার কারণে সময়মতো বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হয় হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

এদিকে কটিয়াদী পৌরসভার সচিব আলমগীর বেতন-ভাতা বকেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৩থেকে ৪মাসের বেতন পাবে। রাজস্ব আয় অনুযায়ী ব্যয় বেশি হওয়ায় তাদের বেতন ভাতা নিয়মিত প্রদান করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

যদিও এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌরসভার মেয়র শওকত উসমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভার আয় থেকে বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয় মাসের বেতন বকেয়া কথা স্বিকার করে তিনি আরো বলেন, আমরা চেস্টা করবো তাদের এক মাসের বেতন প্রদান করার।

Comments are closed.







প্রধান সম্পাদক : ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সহ-সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন শরীফ।
বার্তা সম্পাদক - মাসুম পাঠান, প্রধান কার্যালয়: ১৩/এ মনেশ্বর রোড, হাজারিবাগ, ঢাকা- বাংলাদেশ।
জোনাল অফিস: বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, কটিয়াদী বাজার (অগ্রনী ব্যাংক নিচতলা), কিশোরগঞ্জ।
ফোন : ০১৭১১-১৮৯৭৬১, ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭৩২-১৬৩১৫৭।
ই-মেইল: news@ghatanaprobaha.com, ওয়েবঃ- www.ghatanaprobaha.com
ডিজাইন: একুশে