logo

তাড়াইলে ৬৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান লুটপাট

মো. এনামুল হক, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের অর্থ এবং ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রিপিয়ারিং কাজের জন্য ১ লাখ টাকা করে ভুয়া বিলভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।গত ৯ জুন ২০১৬ তারিখে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা উপকরণ ক্রয় না করেই টাকা উত্তোলন করার খবর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।সংস্লীষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৫/২০১৬ অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে উপজেলার ৬৮টি বিদ্যালয়ে প্রতিটিতে ৫০ হাজার করে মোট ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ের মেরামত করার কথা থাকলেও বিদ্যালয়গুলো কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেছগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু আংশিক কাজ হয়েছে এবং কোন কোন বিদ্যালয়ে কোন সংস্কার কাজ হয়নি। অথচ এসব বিদ্যালয় মেরামত কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিলের টাকার চেক নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। অপর দিকে স্কুল লেভেল প্লানিংয়ের ৪০ হাজার, রিপিয়ারিং ৫ হাজার, প্রাক প্রাথমিক মালপত্র ক্রয় ৫ হাজার, সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা সবাই মিলে আতœসাৎ করেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ বিষয়ে এক প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের এসব অনুদানের টাকা ছাড় করতে অফিসের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদিগকে, একাউন্ট অফিসসহ অন্যান্য অফিসে টাকা দিতে হয়েছে। বর্তমানে অফিস খরচের পর যে টাকা আছে তা দিয়ে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করা হয়েছে বা আরও হবে বলে তিনি জানান।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল  বলেন, আমি অফিসের কাজের চাপে সবগুলো বিদ্যালয়ে যেতে পারি নি। তবে কিছু কিছু বিদ্যালয় ঘুরে দেখেছি ভালো কাজ হয়েছে। আর কিছুগুলোতে ত্রুটি দেখা মাত্রই কাজ সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি যেগুলো কাজ এখনো হয়নি, তা আমি দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছি।

Comments are closed.







প্রধান সম্পাদক : ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সহ-সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন শরীফ।
বার্তা সম্পাদক - মাসুম পাঠান, প্রধান কার্যালয়: ১৩/এ মনেশ্বর রোড, হাজারিবাগ, ঢাকা- বাংলাদেশ।
জোনাল অফিস: বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, কটিয়াদী বাজার (অগ্রনী ব্যাংক নিচতলা), কিশোরগঞ্জ।
ফোন : ০১৭১১-১৮৯৭৬১, ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭৩২-১৬৩১৫৭।
ই-মেইল: news@ghatanaprobaha.com, ওয়েবঃ- www.ghatanaprobaha.com
ডিজাইন: একুশে