logo

টিনএজারদের আধুনিক ভালোবাসা

টিপু সুলতান:
কথা হচ্ছিল একজন টিনএজারের সাঙ্গে। এটি তার জীবনের গল্প। গল্পটা এমন—মেয়েটি গর্ব করে বলে আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের ২৩ নম্বর গার্লফ্রেন্ড আর ওদিকে বয়ফ্রেন্ডও জানে সে তার কত নম্বর গার্লফ্রেন্ড।
দু’জনের পরিচয়টা আবার দু’জনের বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে যাওয়ার ট্রানজিশনাল টাইমে। তাই দু’জনেই দু’জনের মনের দুঃখ বোঝে এই বোধ থেকে শুরু তাদের ভালোবাসা। তাদের সম্পর্কের বয়স বছরখানিক, এর মধ্যে রাতজেগে কথা ও ফেসবুকে চ্যাটিং। মাসে দুই তিনবার সন্ধ্যায় রিকশাভ্রমণ।
একটু ঘনিষ্ঠ হতেই ছেলেটির মুখে কথা ফোটে— আমি তোমার সঙ্গে রুম ডেটিং করতে চাই। কিন্তু আমি অনেক ভালো আমি তোমাকে কতটা সম্মান করি যে, আমি আমার কোনো বন্ধুর বাসায় তোমাকে নিয়ে যাবো না। কারণ তুমি আমার ভালোবাসা, তাই আমার নিজের বাসাতেই তোমাকে নিয়ে রুম ডেটিং করবো।
মেয়েটি ভাবে, হাউ সুইট! ছেলেটি আমাকে কত ভালবাসে, ও আমাকে কত টেক কেয়ার করে। আর এত সম্মান নিজের বাসায়, ওয়াও! এই সুখ রাখি কোথায়।
অতঃপর ছেলেটির নিজের বাসায়ই শুভ সুচনা হলো তাদের রুম ডেটিংয়ের। হয়তো ওদের এই প্রেমটিও টিকবে ৬ মাস কিংবা ১ বছর। তারপর ঠুনকো একটি কারণ দেখিয়ে দু’জনের ব্রেকআপ। আবারো দু’জনের ট্রাস্টিশনাল পিরিয়ড, আবারো হয়তোবা নতুন মুখ।
ঘটনাটি একটি সত্য ঘটনা। টিনএজারদের মধ্যে এটিই হলো এই গ্লোবালাইজেশনের আধুনিক যুগে প্রেম-ভালোবাসা। আমি ভালবাসাকে শ্রদ্ধা করি। প্রেম সে তো অদ্ভুত এক শৈল্পিক সম্পর্ক।
তাই প্রেম ভালোবাসার এই করুণ পরিণতি দেখলে কষ্ট হয়। এই সব সম্পর্কগুলোর উদ্দেশ্যে শুধুই বলতে চাই—এগুলো প্রেম কিংবা ভালোবাসা নয়। বরং এ সম্পর্কগুলোকে আধুনিকভাবে বলা যায় ভালবাসার বেশ্যাবৃত্তি। বেশ্যাবৃত্তিতে যেমন উভয়ের জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য টাকার প্রয়োজন পড়ে। আর এই সম্পর্কগুলোতে টাকার পরিবর্তে টিনএজাররা নিজের অজান্তেই ব্যবহার করছে ছদ্ম ভালবাসা নামক নতুন ধরনের এক হাতিয়ার। এ হাতিয়ারের দাপটে তাদের স্মৃতির ভান্ডারে বেড়েই চলেছে এক একটি নতুন মুখ। একটি সম্পর্কের ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে আরেকটি সম্পর্ক। ঠিক বেশ্যাবৃত্তির মত। এ যেন ভালোবাসার বেশ্যাবৃত্তি।
সম্পর্কের নতুন এই সংস্করণের কালো প্রভাব এরই মধ্যে সমাজ ব্যবস্থায় পড়তে শুরু করেছে। বাড়ছে মানসিক রোগী। বাড়ছে অপরাধ। ছেলেমেয়েগুলো ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তাদের মুল্যবোধ।
এখন থেকেই যদি সমাজের টিনএজারদের এই অংশকে  যদি না বোঝানো হয় তবে তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হবে হুমকিস্বরুপ। তাই এখন থেকেই সমাজকর্মীদের এদের নিয়ে কাজ শুরু করার সময় এসেছে।

Share Button

Comments are closed.







প্রধান সম্পাদক : ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সহ-সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন শরীফ।
বার্তা সম্পাদক - মাসুম পাঠান, আমিন প্লাজা, ৩য় তলা, নয়াপল্টন, ঢাকা- বাংলাদেশ।
ফোন : ০১৭১১-১৮৯৭৬১, ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭৩২-১৬৩১৫৭।
ই-মেইল: news@ghatanaprobaha.com, ওয়েবঃ- www.ghatanaprobaha.com
Developed By: Ekushey.Info