logo

আমরা ব্যাচেলররা যাবো কোথায় ?

সিয়াম আহমেদঃ ঢাকা মহানগরীতে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা প্রকট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিন কাটছে আতঙ্কে । পরিবার যার পাশে থাকে সে হয়তো আরাম আয়েশে দিন পার করছে কিন্তু দিন শেষে বাসায় ফিরে যাকে আবার রান্না ও বিভিন্ন ঝামেলার কথা ভাবতে হয় তার ভাবনার সীমা কতদূর কে জানে ।

প্রতি মাসে পরিবার থেকে আসা সীমিত  টাকা দিয়ে সারা মাস চলতে হয় এদের । জীবন এক এক জায়গায়  এক রকম । জীবনের অর্থ হয়তো ঢাকার স্থানীয়দের মতো না ব্যাচেলরদের । এমনিতেই ব্যাচেলরদের বাড়ী ভাড়া দিতে নারাজ, তাদের ব্যাপারে ঘোর আপত্তি মালিক পক্ষের।

সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় দেশের  কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জড়িত থাকায় নড়েচড়ে বসেছেন বাড়ির মালিকগণ, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। গত মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের সাঁড়াশি  অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কল্যাণপুরে আর ব্যাচেলরদের আর বাসা ভাড়া দিবেন না, যারা আছে তাদেরও বাসা ছাড়তে হবে বলেন বাড়ির মালিকরা। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে দাবি  করেছেন এলাকার ব্যাচেলররা।

নগরে রয়েছে ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অন্তত ৪৯টি  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও আনুমানিক ৬০টি কলেজ । আশপাশের জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পড়ছেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হলের কিছু ব্যবস্থা থাকলেও  বেসরকারিগুলোতে নেই। শিক্ষার্থীরা বেছে নিচ্ছেন মেস বা হোস্টেল, গুনছেন অধিক টাকা।

ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, মুহাম্মাদপুর, মিরপুর, ফার্মগেট, উত্তরা, নতুন বাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ আরও কিছু এলাকায় শিক্ষার্থীরা হোস্টেল বা মেস ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এখানকার প্রায় প্রতিটি গলিতেই একাধিক মেস বা হোস্টেল দেখা যায়।

মুহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের রাব্বি চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাচেলররা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে, বাসা ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করে। কীভাবে বাসা ভাড়া দেব ওদের’। আবার অনেকেই বলেছেন, ব্যাচেলররা বাড়িভাড়া নেওয়ার সময় বানিয়ে বানিয়ে কথা বলেন। তাই তাঁদের বিশ্বাস করা যায় না। ব্যাচেলরদের দাবি, তাঁরা যতই বোঝান না কেন দেশে আইন-কানুন আছে, সবাই এক রকম নয়, তবু বাড়িওয়ালার মন গলে না। ব্যাচেলর আর বাড়িওয়ালাদের এই বিরোধ চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। কিন্তু মুক্তির যেন উপায় নেই।

মুহাম্মাদপুরে গতকাল রাতে চলে পুলিশি অভিযান, ব্যাচেলর বাসিন্দারা ছিল চিন্তিত। ইউল্যাবের শিক্ষার্থী সুমেত বড়ুয়া বলেন, ‘কাল রাতে পুলিশের অভিযানের সময় বাড়িওয়ালা আসেন। আমাদের আরও সতর্ক করে এসব বেপার এ। আমরাও খুব ভয়ে ছিলাম কখন কি হয়। কল্যাণপুরে ব্যাচেলরদের বাড়ী ভাড়া না দেয়াটা অযৌক্তিক। ভাড়া না দিলে আমরা যাবো কোথায় ?’। সুমেতের মতো পুরো ঢাকা জুড়েই ব্যাচেলর বাসিন্দারা রয়েছে চরম উৎকণ্ঠায়।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসরত ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা পড়ছে বিপাকে। অনেকেরই বাসা ছাড়তে হয়েছে, বাসায় বাসায় তল্লাশি অভিযানও চালায় পুলিশ।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র সৈকত বলেন, ‘আগের থেকে অবস্থা এখন অনেক কড়াকড়ি। রাতে সময় মতো বাসায় আসতে হয়। নতুন করে ছবি আর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছি। কল্যাণপুরের বাড়িওয়ালাদের সিদ্ধান্ত এক তরফা সিদ্ধান্ত’।

ধানমন্ডির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যামফোডের ছাত্র শিহাব থাকেন মিরপুরে। বন্ধুদের সাথে ব্যচেলর বাসায় থাকেন তিনি। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘৬মাস ধরে আছি এখানে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ঘটনার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছে বাসা ছাড়ার জন্য।সরাসরি না বললেও বাসা ভাড়া বাড়ানো, পানির সমস্যা এসব শুরু করেছে। এমন অবস্থায় কি করব বুঝতে পারছি না ঢাকার বাইরে থাকা অবিভাবকরা উদ্বেগে রয়েছেন। সন্তানের জন্য এমনিতেই চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি পুলিশের ধর পাকর ও জঙ্গি হামলায় নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলছে অবিভাবকদের।

Comments are closed.







প্রধান সম্পাদক : ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সহ-সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন শরীফ।
বার্তা সম্পাদক - মাসুম পাঠান, প্রধান কার্যালয়: ১৩/এ মনেশ্বর রোড, হাজারিবাগ, ঢাকা- বাংলাদেশ।
জোনাল অফিস: বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, কটিয়াদী বাজার (অগ্রনী ব্যাংক নিচতলা), কিশোরগঞ্জ।
ফোন : ০১৭১১-১৮৯৭৬১, ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭৩২-১৬৩১৫৭।
ই-মেইল: news@ghatanaprobaha.com, ওয়েবঃ- www.ghatanaprobaha.com
ডিজাইন: একুশে